|
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (আবিপ্রবি) স্থাপত্য বিভাগের গৌরবময় তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বিশেষ উৎসব ‘প্রজন্মের মেলবন্ধন’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্থাপত্য বিভাগ এবং ‘অ্যালামনাই অব অস্ট আর্কিটেক্টস’ (এএএ)-এর যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই পুনর্মিলনী ও উদযাপনে অংশ নেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং খ্যাতনামা স্থপতিরা। শিক্ষা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধনে মুখরিত ছিল পুরো ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। ১৯৯৫ সালে স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের অধীনে আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (আবিপ্রবি) স্থাপত্য বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। প্রখ্যাত স্থপতি অধ্যাপক ড. এম. এ. মুক্তাদিরের হাত ধরে শুরু হওয়া এই বিভাগটি গত তিন দশকে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্থাপত্য শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাস্থই কর্তৃক স্বীকৃত ৫ বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার (বি.আর্ক.) প্রোগ্রামের পাশাপাশি ২০১৬ সাল থেকে এখানে মাস্টার অব আর্কিটেকচার (এম.আর্ক.) কোর্সও চালু রয়েছে। |
|
আবিপ্রবির স্থাপত্যের শিক্ষার্থীরা বিশ্বমঞ্চে বারবার নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির একটি আন্তর্জাতিক ডিজাইন প্রতিযোগিতায় এবং পরবর্তীতে ২০২১ সালে মর্যাদাপূর্ণ 'তামায়োজ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড'-এ বি.আর্ক থিসিস প্রকল্পের জন্য 'অনারেবল মেনশন' অর্জন করেন। এছাড়া, ২০২৩ সালে এই বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অষ্ট্রিয়ায় ইউনেস্কো-সহযোগী 'বেসহ্যাবিট্যাট ইন্টারন্যাশনাল সামার স্কুল'-এ সম্পূর্ণ অর্থায়নে স্কলারশিপ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বিভাগের শিক্ষকরাও ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক 'পোর্সেলানোসা ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট অ্যাওয়ার্ড' লাভ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিক সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন। দেশের অভ্যন্তরে এই বিভাগের শিক্ষকরা স্থাপত্যশিল্পের অবদানের জন্য 'বার্জার অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সেলেন্স ইন আর্কিটেকচার' জয় করেছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত জাতীয় প্রতিযোগিতাসমূহে নিয়মিত সাফল্য লাভ করার পাশাপাশি 'শাহ্ সিমেন্ট ডট স্টুডেন্ট ডিজাইন অ্যাওয়ার্ড'-এর মতো প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন সময়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। |
তিন দশক পূর্তি উৎসবের উদ্বোধন (ছবিসত্বঃ সোশ্যাল মিডিয়া) |
|
অধ্যাপক ড. এম. এ মুক্তাদির (ছবিসত্বঃ স্থাপত্য ও নির্মাণ) |
|
উৎসবের প্রথম দিন, ২ জুলাই, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একদিনের নকশা প্রতিযোগিতা ‘থ্রেডস অব টাইম’-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানমালার সূচনা হয়। পরবর্তীতে অধ্যাপক ড. এম. এইচ. খান অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী পর্বে বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা বিভাগীয় প্রধান ও ডিন অধ্যাপক ড. এম. এ. মুক্তাদিরকে ‘আজীবন সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে বিভাগের শিক্ষার্থীদের সেরা একাডেমিক প্রকল্পগুলো নিয়ে প্রকাশিত ৩০তম বার্ষিকী স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এরপর শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত নকশাকর্ম নিয়ে ‘দ্য লাইন্স অব টুমরো’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়, যা ৫ জুলাই পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। |
|
বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা বিভাগীয় প্রধান এবং ডিন অধ্যাপক ড. এম. এ মুক্তাদিরকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় (ছবিসত্বঃ সোশ্যাল মিডিয়া) |
|
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান (ছবিসত্বঃ স্থাপত্য ও নির্মাণ) |
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান (ছবিসত্বঃ সোশ্যাল মিডিয়া) |
|
বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত নকশাকর্ম নিয়ে প্রদর্শনী (ছবিসত্বঃ সোশ্যাল মিডিয়া) |
বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত নকশাকর্ম নিয়ে প্রদর্শনী (ছবিসত্বঃ সোশ্যাল মিডিয়া) |
|
৩ জুলাই উৎসবের দ্বিতীয় দিন, স্থাপত্য শিক্ষা ও পেশার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ‘ভবিষ্যতের পাঠশালা: স্থাপত্যের রূপরেখা’ শীর্ষক প্রথম আলোচনায় অংশ নেন স্থপতি মুস্তাফা খালিদ, ড. শরীফ শামস ইমন, ড. সাইফুল ইসলাম, স্থপতি আশিক ভাস্কর মান্নান এবং শ্রীলঙ্কার আন্তর্জাতিক স্থপতি দামিথ সি. প্রেমাথিলাকে। বক্তারা বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর এবং টেকসই স্থাপত্য শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ‘স্থাপত্যের পথচলা: শেখা থেকে সৃষ্টিতে’ শিরোনামের দ্বিতীয় সেশনে স্থপতি জিসান ফুয়াদ চৌধুরী, স্থপতি রুকুন উদ্দিন ভূঁইয়া এবং স্থপতি মো. শফিউল আজম শামীম স্থানীয় বাস্তবতায় স্থাপত্য পেশার সম্ভাবনা, নানাবিধ চ্যালেঞ্জ এবং এই ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা হওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। |
|
সেমিনারের প্রথম সেশন (ছবিসত্বঃ সোশ্যাল মিডিয়া) |
সেমিনারের দ্বিতীয় সেশন (ছবিসত্বঃ সোশ্যাল মিডিয়া) |
|
সেমিনার শেষে অতিথিরা একদিনের নকশা প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এর পাশাপাশি, আরবান ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইউডিডি)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত ‘আরবান ডিজাইন স্টুডিও প্রজেক্ট’-এর অধীনে বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার ‘দামোদর খালের পুনরুজ্জীবন’ প্রকল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের সনদ দেওয়া হয়। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পেশাগত কাজের সংকলিত বিশেষ স্মারকগ্রন্থের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল হক। দুই দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘রিলিভিং গোল্ডেন মোমেন্টস’-এর মধ্য দিয়ে। এই উৎসব কেবল তিন দশকের সাফল্যকেই উদযাপন করেনি, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর স্থাপত্য চর্চায় পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের একসাথে পথচলার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। |
ছাত্রছাত্রীদের দিনব্যাপী নকশা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী (ছবিসত্বঃ সোশ্যাল মিডিয়া) |
|
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পেশাগত কাজের স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন (ছবিসত্বঃ সোশ্যাল মিডিয়া) |
বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান (ছবিসত্বঃ সোশ্যাল মিডিয়া) |
| প্রতিবেদকঃ স্থপতি মুনিয়া আহমেদ মিম |